রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম

পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন আরও কয়েকজন পলাতক ব্যক্তিকে দেশে ফেরানোর বিষয়েও পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হয়েছে।

সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। অনুরোধপত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে মামলার আইনি অবস্থান সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ধারণা পেতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের রায় কার্যকরের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। সে কারণেই দেশের বাইরে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, শুধু একজন নয়, বিদেশে পালিয়ে থাকা অন্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, কার্যকর সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিকাশ এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নেই নয়, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি সহযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরাও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ, জ্বালানি, পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাইবার নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভরশীল। তাই এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!