রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৯:২৫ এএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ছবি:সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি অনুদানভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি ব্যক্তি, ঋণের জামিনদার এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা অন্যান্য সেবার বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কমিশন সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সভা শেষে কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান নির্বাচনী আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশোধিত বিধান কার্যকর হবে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে আরও স্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আর্থিক দায়বদ্ধতা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, যেসব ব্যক্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন কিংবা ঋণের জামিনদার হিসেবে দায়বদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। একইভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা অন্যান্য সরকারি সেবার বিল দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে বলে কমিশনের আশা।

অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তারা ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন না। বয়স পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। এর আগে পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়।

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। শিক্ষাজীবনের কোন স্তর থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শর্ত কঠোর হলে যোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়বে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বৃদ্ধিতেও এসব উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!