রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন বৈঠক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন বৈঠক

সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশই দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।

বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিতে উভয় মন্ত্রী বিস্তৃত আলোচনা করেন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চীনের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবহন করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ, নবায়নযোগ্য শক্তি, শিল্পায়ন এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পখাত সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!