রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ-নেপাল এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

বাংলাদেশ-নেপাল এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ

সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে আরও মসৃণ, টেকসই এবং কার্যকর করতে প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ আবেদন বিবেচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করেছে। এর ফলে দুই দেশের জন্য প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বৈঠকে আলোচনার পর সাধারণ পরিষদের কাছে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে তারা চূড়ান্তভাবে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সফলভাবে অভিযোজনের জন্য অতিরিক্ত সময় অত্যন্ত প্রয়োজন। তার মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি পেলে দুই দেশ প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের আরও কার্যকরভাবে মানিয়ে নিতে পারবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে কেবল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়; বরং অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছরের প্রস্তুতিকাল চেয়েছে।

এর আগে উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয় যে, বিষয়টি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য পাঠানো যৌক্তিক হবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ সাধারণ পরিষদকে আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে ওই তারিখেই বাংলাদেশ ও নেপালের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিক উত্তরণের সময় নির্ধারিত রয়েছে।

সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরেই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সাধারণ পরিষদ যদি প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদন করে, তাহলে বাংলাদেশ এই অতিরিক্ত সময়কে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজে লাগাবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সুবিধা হারাতে পারে। তাই অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল দেশের রপ্তানি খাত, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং শিল্প উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা আরও সহজ হবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সাধারণ পরিষদের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে বাংলাদেশ এলডিসি-উত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতার জন্য আরও সুসংগঠিত প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের পথ আরও শক্তিশালী হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!