প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
আগামী বছরের প্রথম দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার বিকেলে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার সমিতির এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা উচিত নয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মর্যাদা ও দায়িত্ব রক্ষার পাশাপাশি জনগণের প্রতি তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও সমানভাবে প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তিও তত সুদৃঢ় হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও অন্যান্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় ত্রাণ বিতরণ প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রাপ্য অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তারা আরও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে পারিবারিক সহায়তা কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করা যায় এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এবার থেকে বরাদ্দের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে এপ্রিল মাসে বরাদ্দ দেওয়া হতো, এখন থেকে সেপ্টেম্বর মাসেই বরাদ্দ প্রদান করা হবে। এর ফলে বছরের বাকি সময়ের মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।



