প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রী চলাচলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-দিল্লি পথে বিমান চলাচলের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে এ রুটে প্রতিদিন নিয়মিত বিমান পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, পর্যটন এবং পারিবারিক প্রয়োজনে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উদ্যোগ যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, দিল্লি থেকে ছেড়ে আসা নির্ধারিত বিমানটি প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। একইভাবে ঢাকা থেকে ফিরতি বিমানটি প্রতিদিন বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দিল্লিতে পৌঁছাবে। এর ফলে আগে সীমিত সংখ্যক উড়ানের কারণে যাত্রীদের যে ভোগান্তি ছিল, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভ্রমণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পর্যটন, ধর্মীয় ভ্রমণ এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেও ভারতগামী যাত্রীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই বাস্তবতায় প্রতিদিন বিমান চলাচলের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেবল বিমানসেবা বৃদ্ধি করলেই হবে না, ভ্রমণকে আরও সহজ করতে ভিসা প্রদান ব্যবস্থাও স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার ভিসা প্রদান করছে। কিন্তু আবেদনকারীদের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ায় অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে ভিসা কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ করা গেলে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, নিয়মিত বিমান চলাচল বাড়লে শুধু যাত্রীদের সুবিধাই বাড়বে না, বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন খাতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পও নতুন গতি পাবে এবং ব্যবসায়িক সফর আরও সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত বিমান চালুর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করা গেলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও কার্যকর হবে।



