রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যা জানালেন আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যা জানালেন আইনমন্ত্রী

ফাইল ছবি

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চলমান আলোচনা ও নানা জল্পনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য আলাদা কোনো বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানে যে বিধান রয়েছে, সেই ধারাবাহিকতাতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, যাতে বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদের নির্ধারিত অধিবেশনেই সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সম্ভাব্য আইনি বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

এ সময় তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচারব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন। জুলাইয়ের আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, তদন্তে যদি কোনো মামলা ভিত্তিহীন বা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। অপরাধের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধেই থাকুক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!