প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শত শত শিশুর মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬৯১ জন। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগেই সংক্রমণ ও প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে এবং হামের উপসর্গে মোট ৮১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৭২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৭২ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় ঢাকা বিভাগই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট ৩৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৪ হাজার ৫৭৫ জনে, যা দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর ও শরীরে লালচে দাগসহ হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিভাবকদের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।



