প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ২৫ দিনেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ২২৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৪৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১৯০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় এবার ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি এসেছে, যা প্রায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। প্রথম পাঁচ দিনে দেশে আসে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে। মাসের ২১ দিনে এই অঙ্ক পৌঁছে যায় ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে এবং ২৫ দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়াও এ প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ তিনশ কোটি মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তাই বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে আরও উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।



