প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৭:৩১ এএম
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পৃথক কোনো তদন্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দেশের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় যদি তার বা অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য নিয়মিত তদন্ত ও পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় না; বরং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্বলতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, সেটিই মূলভাবে যাচাই করা হয়।
মুখপাত্র আরও বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সে কারণে তাকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে কোনো অনুসন্ধান পরিচালনার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। তবে তদন্তের সময় কোনো ব্যক্তি বা পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে বিষয়টি আইন ও বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব নিরীক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাহ্যিক নিরীক্ষাও সম্পন্ন হয়। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাই বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা পদকে কেন্দ্র করে তদন্ত পরিচালনার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের পরদিন তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে ওঠেন।
অন্যদিকে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। রবিবার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনালের আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাদের পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে এসব কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বিশেষকে অগ্রাধিকার দিয়ে বা লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তদন্ত পরিচালনার নীতি অনুসরণ করা হবে না। বরং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং প্রচলিত আইনই পরবর্তী সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।



