প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
দেশে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্তদের মধ্যে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে এক হাজার একশ পাঁচ জনের শরীরে হাম অথবা হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের পনেরো মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম এবং এর উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটশ পঁচিশে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে সাতশ ত্রিশ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও পঁচানব্বই শিশু।
একই সময়ে সারা দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ চব্বিশ হাজার সাতশ পঁয়তাল্লিশে। অন্যদিকে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে পনেরো হাজার পাঁচশ পঞ্চান্ন জনে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ চললেও আক্রান্তের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজার ছয়শ চুয়ান্ন জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এক লাখ তিন হাজার চারশ সাতষট্টি জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে অবশিষ্ট রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তাই শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করলে সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



