প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১০:১৫ এএম
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মদিবস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের সরকারি বাসভবন থেকে দুপুর ১২টায় তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত শুক্রবার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সাংবিধানিক বিধান অনুসারে তার ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। রোববার সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিখে স্বাক্ষর করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিগুলোর একটি।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি রাজধানীতে ফিরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি নীরবতা পালন ও দোয়ায় অংশ নেন। তার এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নিয়মিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে অনুমোদন প্রদান, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় বৈঠক এবং আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাষ্ট্রপতির পদে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বঙ্গভবন থেকে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।



