প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ১০:৪২ এএম
বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে সংযোজিত যাত্রীবাহী গাড়ি। দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ১০০টি গাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানের একটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের র্যানকন গ্রুপের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে চলতি বছর ১০০টি স্থানীয়ভাবে সংযোজিত গাড়ি বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে গাড়ি খাতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতার পথ তৈরি হবে।
জানা গেছে, আগামী চার বছরের মধ্যে বিদেশের বিভিন্ন বাজারে মোট ৫ হাজার ৮০০টি গাড়ি রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশকে সেই রপ্তানি পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদনবিষয়ক বিশেষ সহকারী হারুন আখতার খান বলেন, এই উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণ, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের শিল্পখাতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেও এটি সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের গাড়ি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, দেশীয় যন্ত্রাংশের ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত নীতি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে র্যানকন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। ক্রেতারা নতুন বিকল্প পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে শিল্প ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে বিকল্পের পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকরা মানসম্মত পণ্য এবং তুলনামূলক ভালো সেবা পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।



