প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, উত্তেজনা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ, সংঘর্ষ এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগের পর ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুই সংগঠনই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। ছাত্রশিবিরের দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, মেধা ও যুক্তিনির্ভর ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তে আবারও পেশিশক্তিনির্ভর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী।
অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ছাত্রদলের কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে শক্তির প্রদর্শন এবং সহিংস পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, পেশিশক্তির প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রশিবির। তাদের মতে, প্রশাসনিক পক্ষপাতের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্রদল জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সাম্য, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। তবে কোনো সংগঠন সশস্ত্র কর্মকাণ্ড বা সহিংসতার পথ বেছে নিলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
যদিও বিভিন্ন বিষয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, তবু উভয় পক্ষই একমত যে শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, সংঘাতের কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়, নষ্ট হয় নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ। তাই সহিংসতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন উভয় সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।



