রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বহুমুখী উৎসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বহুমুখী উৎসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংগৃহীত

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানির বিভিন্ন উৎস নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বড় অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

রোববার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে পৌঁছানোর পর তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা ধরে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।

ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা, পরিচালনা, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটি বর্তমানে শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে জানতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা করে তাদের আরও উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে গঠিত। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই কেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য বন্দর, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা, সড়কসহ বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো রয়েছে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাসায়নিক শিল্প, নতুন তেল শোধনাগার এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও কয়লা টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত এলাকাও পরিদর্শন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন উৎসের সমন্বয় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে আরও দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং প্রস্তাবিত অস্থায়ী গ্যাস জেটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয় তুলে ধরেন।

পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!