প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তার মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রেক্ষাপটে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের আলোচনা সামনে এসেছে। এ ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির হাতে এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার পর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার এসব দায়িত্ব ছাড়ার প্রয়োজন তৈরি হয়। ফলে তার হাতে থাকা মন্ত্রণালয়টি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে আসে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সদস্য দায়িত্ব পরিবর্তন করলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি না হয়, সে জন্য দ্রুত দায়িত্ব বণ্টন করা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে থাকায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এ মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে এ্যানির নাম আলোচনায় আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে গেলে স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন কার্যক্রম ও সমবায়ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার ভূমিকা বাড়বে।
এর আগে ২০২৬ সালের শুরুতে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব বণ্টনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে মন্ত্রিসভার নতুন রদবদল কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা সরকারি ঘোষণা প্রয়োজন। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়বে।



