প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজন সদস্য যুক্ত হতে যাচ্ছেন। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন চার মন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন বলে জানা গেছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিমান, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে কোন মন্ত্রণালয়ে কার দায়িত্ব পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বঙ্গভবনের দরবার হলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন। অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গণি পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হয়। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
এর আগে গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদটি শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভোটের ফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ এবং একই দিনে মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এখন বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



