রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দুই বছরে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানের আশা: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

দুই বছরে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানের আশা: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও মিল বর্তমানে গ্যাস সংকটে ভুগছে—এ বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; দীর্ঘদিনের সমস্যার ধারাবাহিকতায় সরকার এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। স্থায়ীভাবে সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী।

শনিবার ১৫ আগস্ট দুপুরে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আগের বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তবে শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমে আসবে। একই সঙ্গে দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের চলমান সংকট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত কয়েক দিনের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতির পেছনে দুটি ভাসমান গ্যাস টার্মিনালের একটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকা অন্যতম কারণ বলেও জানান মন্ত্রী। অন্য একটি টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অপর টার্মিনালের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে দুটি টার্মিনাল থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংকটকে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি জানান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রুত সমাধানের সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে।

মালয়েশিয়া থেকে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। এ বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান থেকে বড় জাহাজে গ্যাস এনে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ছোট জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে ছোট জাহাজের স্বল্পতা ও আগে থেকেই বুকিং থাকার কারণে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছুটা জটিলতা রয়েছে।

সব মিলিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!