প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। আগামী ১৮ আগস্ট থেকে নতুন এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে মহাসড়কে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা ও জরিমানার তথ্য সংশ্লিষ্ট মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ক্যামেরার মাধ্যমে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে। নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে খুদেবার্তার মাধ্যমে মামলার তথ্য ও জরিমানার পরিমাণ জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে চালককে ঘটনাস্থলে থামিয়ে মামলা করার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জরিমানার তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক অনুমোদিত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়াও সহজ ও দ্রুত হবে।
হাইওয়ে পুলিশের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালুর ফলে মহাসড়কে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আরও নির্ভুলতা আসবে। একই সঙ্গে মামলা ও জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও কমতে পারে।
পুলিশের প্রত্যাশা, নিয়ম ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়াবে। এর ফলে মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমতে পারে।
নতুন ব্যবস্থা সফলভাবে কার্যকর করতে যাত্রী, পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা মহাসড়কের নিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



