প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যকে ভোটার হিসেবে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যও রয়েছেন। একটি সংসদীয় আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবেও সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন। অন্যদিকে অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না এবং সংসদ কক্ষে ভোটকেন্দ্রেও প্রবেশের সুযোগ থাকছে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হতে প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ১৭৫ ভোট। সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা ২৪৭ জন হওয়ায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই স্পষ্ট। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের মোট সদস্যসংখ্যা ৯০ জন।
ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে এবং নির্বাচনী কর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হন। এরপর টানা কয়েকটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।



