প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
প্রথমবারের মতো নয়, তবে প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ সদস্যদের ভোটে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। তবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েও নিজে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না অলি আহমদ।
সংসদ সদস্য না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। ফলে শুধু ভোট দেওয়াই নয়, ভোট গ্রহণের স্থান জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষেও তাঁর প্রবেশের সুযোগ থাকছে না।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জনে নির্ধারিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রয়েছেন ৫০ জন।
অন্যদিকে অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও ভোট দিতে পারছেন না। এ বিষয়ে তিনি স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ১৭৫টি ভোট পেতে হবে। সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা ২৪৭ জন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি মিত্র দলের সদস্যও রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য রয়েছেন ৯০ জন।
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে সংসদ কক্ষেই ফল ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর কয়েকটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার অলি আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দীর্ঘ সময় পর আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটার না হওয়ায় অলি আহমদ নিজেই নিজের নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না।



