প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। রাষ্ট্রপতি পদে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ নির্বাচনের মতো সরাসরি জনগণের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এবার মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার পদ্ধতিও সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যালটপত্রের দুটি অংশ রয়েছে। একটি অংশে ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর এবং স্বাক্ষরের স্থান থাকবে। অপর অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে ভোটদাতাকে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো ভোটকেন্দ্র বা বুথ স্থাপন করা হয়নি। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসেই ব্যালটপত্র গ্রহণ করবেন এবং ভোট দেওয়ার পর সুবিধামতো কাছের যেকোনো ব্যালট বাক্সে তা জমা দেবেন।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তাঁকে সহযোগিতা করছেন নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর একই কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে।
গণনা শেষে মোট কতটি ভোট পড়েছে, কতটি ভোট বৈধ হয়েছে এবং দুই প্রার্থীর মধ্যে কে কত ভোট পেয়েছেন—এসব তথ্য ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় এবার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয়। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী শূন্য পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী আজ ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল।
দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ ভোটকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন সংসদ সদস্যদের ভোটের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম।



