রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, একদিনে প্রাণ গেল ৫ জনের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, একদিনে প্রাণ গেল ৫ জনের

সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অপর একজনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে।

তবে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৬ হাজার ৮৯৬ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৯৫১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকায় এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। বাসাবাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পাত্র, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এই মশা জন্মাতে পারে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশক নিধন কার্যক্রম নয়, নাগরিকদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।

একদিনে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে বাড়ির ভেতর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি পর্যায়ের সতর্কতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও জোরদার করা প্রয়োজন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!