রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেট্রোরেলের আয় বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৯:২৬ এএম

মেট্রোরেলের আয় বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

ফাইল ছবি

মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্টেশনে খাবার বিক্রির যন্ত্র ও খুচরা পণ্যের দোকান স্থাপনের পাশাপাশি ট্রেনের ভেতর ও বাইরে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে ভাড়া, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক চাপের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোম্পানিটির একাধিক দরপত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, মেট্রোরেল স্টেশনের কনকোর্স এলাকার যাত্রীদের টিকিটবিহীন অংশে খাবার বিক্রির যন্ত্র স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশন রয়েছে। তবে কোন স্টেশনের কোন স্থানে এসব যন্ত্র বসানো হবে এবং সর্বোচ্চ কতটি যন্ত্র স্থাপন করা যাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই উদ্যোগ নিয়ে কোম্পানিটির কয়েকটি পরিচালনা পর্ষদের সভাতেও আপত্তি উঠেছে বলে জানা গেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, খাবার বিক্রির যন্ত্র স্থাপনের জন্য নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বছর আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ করে বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এ ধরনের ধারাবাহিক ভাড়া বৃদ্ধি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

শুধু ভাড়া নয়, এসব যন্ত্রে কোন ধরনের খাবার বিক্রি করা যাবে, খাবারের মান ও দাম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিল কে বহন করবে এবং যন্ত্রের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার থাকবে—এসব বিষয়েও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি ১৪টি স্টেশনে মোট ৩১টি খুচরা দোকান ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীসমাগমের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি স্টেশনকে কেন তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কোন স্টেশনে কতটি দোকান থাকবে, দোকানের আয়তন ও ধরন কী হবে এবং ভিত্তিমূল্য কত নির্ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয় নিয়েও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।

মেট্রোরেলের আয় বাড়ানোর আরেকটি বড় পরিকল্পনা বিজ্ঞাপন খাত ঘিরে। ২৪ সেট ট্রেনের প্রতিটিতে আলোকিত পর্দা এবং আলোহীন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন যাত্রীদের চলাচল, স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের আগের বছরের ন্যূনতম এক কোটি টাকা লেনদেন এবং বিজ্ঞাপন খাতে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এক বছরের ভাড়া এককালীন অগ্রিম পরিশোধের বিধানও রয়েছে। বিজ্ঞাপন ইজারার মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণের কারণ এবং সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচনের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও স্পষ্টতা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি না বাড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!