প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া দেশের যেকোনো নাগরিকের সভা-সমাবেশ করা, মতপ্রকাশ করা এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই নিজেদের কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি। সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখার পাশাপাশি নাগরিকদের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, গত ছয় মাসে একটি গুমের ঘটনা ঘটেছে এবং আরও তিনটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী স্বীকার করেন, দেশে মিথ্যা মামলা হচ্ছে না—এমন দাবি করা যাবে না। তবে এ ধরনের ঘটনা যাতে কমে আসে এবং আইনের অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যমান আইনে কিছু জটিলতা রয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব প্রস্তুত হওয়ার পর তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও সুপারিশ এখনো সরকারের হাতে পৌঁছেনি বলে জানান তিনি।
দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার পেছনের দিকে ফিরে যেতে চায় না। চলার পথে ভুল হতে পারে, তবে সেগুলো সংশোধন করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।



