রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমদানিতে অর্থ পাচার ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৯:১২ এএম

আমদানিতে অর্থ পাচার ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

ফাইল ছবি

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ও অবৈধভাবে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর ঠেকাতে বড় অঙ্কের আমদানির ওপর নজরদারি আরও জোরদার করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আমদানি প্রক্রিয়ায় নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সংশ্লিষ্ট তথ্য জানাতে হবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় আমদানির বড় অঙ্কের লেনদেন ঋণপত্র খোলার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে অনলাইন আমদানি তদারকি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবে সরকারি আমদানি এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে গত ১৩ আগস্ট জারি করা সার্কুলারে বড় অঙ্কের আমদানি, ঋণপত্র খোলা, পণ্যের বিবরণ যাচাই, বাণিজ্যিক নথিপত্র সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, বিদেশি রপ্তানিকারক, পণ্যের প্রকৃত বিবরণ, মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। কোনো তথ্যের অসঙ্গতি বা সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়লে তা যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য অতিরিক্ত দেখানো, ভুল পণ্যের বিবরণ দেওয়া, ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আমদানির আড়ালে অর্থ পাচারের মতো অনিয়ম প্রতিরোধ করা। বিশেষ করে কোনো পণ্যের প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাঠানো হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা সহজ হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় অঙ্কের আমদানি লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জরুরি। আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের পরিচয়, পণ্যের মূল্য এবং বাণিজ্যিক নথি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা গেলে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এতে দেশের আমদানি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!