প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ভুটানের রাজার বিশেষ বিমান ঢাকায় যাত্রাবিরতি করলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।
বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন ভুটানের রাজা। এ সময় বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতার মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন তাঁরা।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ভুটানের রাজা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও দেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা এবং রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনায় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও ভুটানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ভুটানের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ছিল ভুটান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের বর্তমান রাজার বাবা প্রয়াত রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ আন্তরিকতা ও শুভকামনার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দুই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ভুটানের রাজা। তিনি ভুটানে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় থাকা ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে ভুটানের উদ্দেশে যাত্রা করে।



