প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
চীনের একটি স্বনামধন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও অর্থসংকটে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা কাকফো গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানম। শেষ পর্যন্ত তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
জানা গেছে, ফাতেমা খানম চীনের একটি খ্যাতনামা চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তি ফি, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর পরিবারের ছিল না। ফলে মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
বিষয়টি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের নজরে এলে তিনি ফাতেমার পাশে দাঁড়ান। নিজের পক্ষ থেকে তাঁকে দেড় লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করেন। সব মিলিয়ে ফাতেমার পড়াশোনার জন্য ছয় লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয়।
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ফাতেমা খানমের কাছে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। এই সহায়তার ফলে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ তাঁর জন্য সহজ হয়েছে।
ফাতেমার সহায়তার বিষয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, এলাকার কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন শুধু অর্থের অভাবে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়েন, সেটিই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। ফাতেমাকে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর পাশে দাঁড়াতে পেরে তিনি গর্বিত। ভবিষ্যতে পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ফাতেমার পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের মধ্য দিয়েই দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিতে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিকে ফাতেমার বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হওয়ায় তাঁর পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অর্থের অভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যাতে থেমে না যায়, সেই দৃষ্টান্ত হিসেবে ফাতেমার পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে দেখছেন তাঁরা।



