রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

সংগৃহীত

আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদনের আকার প্রায় ৬৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় অর্থনীতির মোট আকারের হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশকে পেছনে ফেলার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে করা পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে আগামী কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক আকার আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির মোট পরিমাণ ১৫০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অবদান ক্রমেই বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অর্থনীতির আকারের দিক থেকে দেশটি আগামী কয়েক বছরে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হলে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়তে পারে।

তবে শুধু অর্থনীতির মোট আকার দিয়ে কোনো দেশের মানুষের জীবনমান বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিচার করা যায় না। জনসংখ্যার আকার, মাথাপিছু আয়, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, উৎপাদনশীলতা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হলেও এর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সংস্কার ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অটুট থাকতে পারে। ওই সময় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের অর্থনীতির আকার হতে পারে প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

জার্মানি ও ভারতের মধ্যেও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার প্রতিযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। ২০৩০ সালে জার্মানির অর্থনীতির সম্ভাব্য আকার প্রায় ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। অর্থাৎ ব্যবধান থাকবে মাত্র কয়েক বিলিয়ন ডলারের।

এশিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্বও আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চীন ও ভারতের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও এ অঞ্চলের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে থাকবে। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর অংশ হবে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

এই পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, রপ্তানি, অভ্যন্তরীণ ভোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিভিন্ন খাত দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে অর্থনীতির সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা আগামী দিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হলে পূর্বাভাস অনুযায়ী অর্থনীতির সম্প্রসারণের সুফল সাধারণ মানুষের কাছেও আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান শক্ত থাকলেও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দ্রুত উত্থান আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনছে। সেই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশও আগামী দশকে আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি করছে। ২০৩০ সালের পূর্বাভাস তাই বাংলাদেশের জন্য যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!