রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সংগৃহীত

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পথে। এবার আগের বিতর্কিত পদ্ধতির পরিবর্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কর্মীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জনশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দেশটির সরকারের নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কর্মীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করাকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দফায় নির্বাচিত ১০ হাজার কর্মীকে বিমানভাড়াসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ উড়োজাহাজে তাদের পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা কর্মসংস্থানের সুযোগ আবার চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে শ্রমবাজার পুরোপুরি চালুর আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হচ্ছে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাছাইয়ে মালয়েশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করেছে। তাদের যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও নিজেদের অবস্থান থেকে বিতর্কিত ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে কার্যরত অনুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে বিতর্কিত কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে আপাতত ১৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। শ্রমবাজার চালু হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্র যাচাই করে অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকার বলছে, নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, নিরাপদ আবাসন ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরে কর্মীদের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মী হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার নজরদারি ব্যবস্থা ও সহায়তা কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মীদের অভিযোগ গ্রহণ, যাচাই এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার খবরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট নিয়ম, আবেদন পদ্ধতি, খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। সেই নির্দেশনা প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো কিংবা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

দালাল ও প্রতারকচক্রের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। কারণ শ্রমবাজার চালু হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতার মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। এরপর নতুন সমঝোতার মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকারের আশা, নতুন পদ্ধতিতে অভিবাসন ব্যয় কমবে, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে দেশে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বাড়তে পারে এবং পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং কোনো ধরনের গুজব বা দালালের কথায় অর্থ লেনদেন না করার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!