রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আইরিন জুবাইদা খান। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে নতুন দায়িত্বের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তিনি।

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কর্মজীবনে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আইরিন খানের। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সাল থেকে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেছেন।

এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন খান। তিনি ছিলেন সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব। ওই দায়িত্বে থাকাকালে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষায় নীতিগত উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আইন সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে আন্তর্জাতিক আইন, উন্নয়ন, সুশাসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

আইরিন খানের আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায়। সেখানে তিনি দীর্ঘ ২১ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের ওই সময়ে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ভারতে প্রধান মিশন কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিভাগের উপপরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এসব দায়িত্বের মাধ্যমে শরণার্থী সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষ দক্ষতার কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্বে তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থান আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরা, বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের বক্তব্য উপস্থাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে মানবাধিকার, শরণার্থী সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার মতো বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন বৈশ্বিক আলোচনায় দেশের স্বার্থ রক্ষায়ও তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

নিউইয়র্কে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন জুবাইদা খানের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু হলো। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে কী ধরনের ভূমিকা রাখেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!