প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এসব অস্ত্রের সন্ধান দিতে সহায়তাকারীদের জন্য আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হলে তথ্যদাতাকে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং পুলিশের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো, পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষভাবে কাজ করা হবে। এ ধরনের অস্ত্র কোথায় রয়েছে বা কার কাছে আছে—এমন তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতাদের উৎসাহিত করতেই পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধার এবং যাচাই-বাছাইয়ের পরই পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি কার্যকর হবে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার অপরাধ ও জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস, ব্যবহারকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের বিশেষ ইউনিট এ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সভায় গত কয়েক মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। কোথায় কী ধরনের অপরাধ বেশি ঘটছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কোন কোন ক্ষেত্রে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও উন্নত হবে। এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিটের কার্যক্রম এবং তথ্যদাতাদের জন্য ঘোষিত পুরস্কার এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



