রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

প্রতীকী ছবি

দেশে গত দেড় দশকের বেশি সময়ে নিখোঁজ বা গুমের অভিযোগ ওঠা আড়াই শতাধিক ঘটনার ভিত্তিতে একটি বড় মামলা প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়। অভিযোগের তালিকায় বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের ঘটনাও রয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে পালিত হয়। একই সঙ্গে গুমের ঘটনা বন্ধ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া এবং পরে তাঁদের আর কোনো সন্ধান না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। আড়াই শতাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গুম বিষয়ে অভিজ্ঞ পাঁচজন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তদল গঠন করা হয়েছে। প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম নিজে দলটির কার্যক্রম তদারক করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি গুমসংক্রান্ত আরও ১১টি মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যায়ক্রমে দাখিল করা হতে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে গুমের অভিযোগকে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুমকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সনদ গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে গুমের ঘটনা প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার রক্ষা এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির পথ বন্ধ করা।

দেশে গুমের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর। অভিযোগগুলোর মধ্যে কারা প্রকৃতপক্ষে জড়িত এবং প্রতিটি ঘটনায় কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দেশে দীর্ঘদিনের গুমের অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আড়াই শতাধিক অভিযোগের তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে এসব ঘটনার সত্যতা ও দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!