প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালকে কেন্দ্র করে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আধুনিক এই বন্দর অবকাঠামো শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে নয়, বরং বাংলাদেশকে বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার সকালে কর্ণফুলী নদীর তীরে পতেঙ্গা এলাকায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের বিশ্ববাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করতে উন্নত বন্দর, দ্রুত পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এবং আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামোর বিকল্প নেই। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, দেশের সামনে বৃহৎ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের বন্দর অবকাঠামো, দক্ষ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, দেশের বাণিজ্য খাতকে ঘিরে বর্তমানে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে। তাই পণ্য আমদানি ও রপ্তানির চাপ সামাল দিতে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। লালদিয়া টার্মিনাল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বড় অর্থনীতি গঠনের পথে বেসরকারি খাতকে নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের পথে বিদ্যমান বাধা দূর করা।
সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে নির্ধারিত সময়েই এই বৃহৎ প্রকল্পের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাও জরুরি। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়েই টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে হবে।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই টার্মিনাল ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।



