প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রায় ২৪ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন। এ সময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চলমান স্বাস্থ্য সহায়তা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সহায়তার আওতায় নবজাতকের পরিচর্যায় ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের উষ্ণ রাখার যন্ত্র, শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তার বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় বিশেষ খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টিকা সংরক্ষণ ও নির্ধারিত তাপমাত্রায় নিরাপদে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা শীতল শৃঙ্খল সরঞ্জামও সরবরাহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব চিকিৎসা উপকরণ বাংলাদেশের হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং দুর্গম অঞ্চলের চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নবজাতক ও শিশুদের জরুরি চিকিৎসা, অপুষ্টি মোকাবিলা এবং টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়ক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে এ ধরনের সহায়তার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণে এটি সহায়ক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাস্তবভিত্তিক অংশীদারির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও সক্ষম করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



