রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খুব শিগগিরই কমবে লোডশেডিং: তথ্য উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

খুব শিগগিরই কমবে লোডশেডিং: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

দেশে বর্তমানে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি খুব বেশি সময় স্থায়ী হবে না বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে মানুষের যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকটের চাপ শুধু গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ওপর না দিয়ে শহর ও গ্রামের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্য রেখে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং বেড়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় শহরগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ নগরাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকত। বর্তমান সরকার এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সংকটের প্রভাব বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার নীতি নিয়েছে।

তবে বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয় বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেশি হওয়ায় সেখানে বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্নতা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর অর্থ এই নয় যে শহরের মানুষের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে তাদের বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হবে।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্র বন্ধ থাকা, সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

আগের সময়ে দেশে কী পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছিল এবং কোন কোন এলাকায় তার প্রভাব বেশি পড়েছিল, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ওপর অতীতে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিংয়ের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি একটি সংকটকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সাময়িকভাবে কমবেশি সবাইকে কিছুটা ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে সরকার আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সার সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে সারের সামগ্রিক সংকট নেই। তবে কোনো কোনো এলাকায় সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!