প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অতীতের ঘটনা ও মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেসব বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে অতীতের মধ্যে আটকে থাকলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির কাজ বাধাগ্রস্ত হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি দলটির নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানান।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। দেশের জনগণ এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকারই দেশের মানুষের জন্য কোন সিদ্ধান্ত সবচেয়ে ভালো, তা নির্ধারণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্পর্কের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কও দুই দেশের বন্ধনকে শক্তিশালী করে। দুই দেশের সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নেয়, তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর পড়ে। তাই জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দায়িত্ব উভয় দেশেরই রয়েছে।
প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে কেউ বড় বা ছোট নয়; উভয় দেশই সমান মর্যাদার অংশীদার। সীমান্তের দুই পাশে মানুষের জীবন, আশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে যুক্ত। ফলে প্রতিবেশী হিসেবে পারস্পরিক দায়িত্বও অনেক বেশি।
বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি ভারতেরও রয়েছে। দুই দেশের বাস্তবতা ও সমস্যাগুলো পরস্পরের দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই সম্পর্ককে আরও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভবিষ্যতের সহযোগিতার পথ বন্ধ করা উচিত নয় বলে মত দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির পথে বাধা হিসেবে দাঁড় করানো যাবে না।
সাক্ষাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক বাণিজ্য আরও সহজ ও বিস্তৃত করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যিক বাধা কমিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সামনে নানা ধরনের বাধা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো অতিক্রম করেই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে হবে। পারস্পরিক আস্থা, জনগণের কল্যাণ, সমতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।



