প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষকে যে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ যে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন, সরকার সে বিষয়ে অবগত। এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও পরিকল্পনার প্রভাবের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস মিলিয়ে বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব, তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গেলে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি—এই তিন খাতে গ্যাস সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকায় বর্তমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত এসব ইউনিট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভারত থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ বিদ্যুতের তুলনায় বর্তমানে কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ভাসমান টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল।
গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান গ্যাস টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সেটি মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, বন্ধ থাকা পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটগুলো দ্রুত চালু করা গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য স্বস্তি ফিরতে পারে। এ কারণে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের নতুন সৌরবিদ্যুৎ নীতির মাধ্যমে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগকে স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং এ খাত নিয়ে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্য সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।



