প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে চাকরির শুরুতেই মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষক পদে ২৪ হাজার টাকা থেকে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমান বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় কয়েক ধাপে তা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা করে যোগ হলে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার টাকা।
ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়ার পর দশম গ্রেডে একজন প্রধান শিক্ষকের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা নতুন হারে কার্যকর হলে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন প্রধান শিক্ষকের মোট বেতন ও ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পান। বিদ্যমান কাঠামোয় এই পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা এক লাফে ২৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে চাকরির শুরুতেই সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।
নতুন কাঠামোয় ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়ার পর একজন সহকারী শিক্ষকের সর্বোচ্চ মূল বেতন প্রায় ৫৮ হাজার টাকা হতে পারে। এ ছাড়া ২০২৮ সাল থেকে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা নতুন হারে কার্যকর হলে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৪০ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।
তবে নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে কর্মরত সব শিক্ষকের বেতন একই হারে নির্ধারিত হবে না। তাদের বেতন নির্ভর করবে চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, ইতোমধ্যে পাওয়া ইনক্রিমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলোর ওপর। ফলে একই পদে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতায় পার্থক্য থাকতে পারে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়লে একদিকে যেমন পেশাটির আকর্ষণ বাড়তে পারে, অন্যদিকে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মপ্রেরণাও বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ও চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী বেতন বাড়লেও চূড়ান্ত কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন এলে বেতন-ভাতার পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।



