রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী হেলাল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী হেলাল

ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, সংঘাত কমানো এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তাঁর মতে, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চালিয়ে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বুধবার রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও গোলাগুলি বা সংঘাতের ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঠিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এটিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। সংঘাতের পেছনে থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে এবং তরুণদের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে সহিংসতার প্রবণতা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে দূরশিক্ষণভিত্তিক ব্যবস্থা ও মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা ক্ষেত্রে পাহাড় ও সমতলের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে উৎপাদক যেন তার পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য পান, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাবলম্বিতা বাড়বে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। এজন্য আইনগত ব্যবস্থা, সামাজিক উদ্যোগ, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন—সবগুলো বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের পরিকল্পনায় তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মীর হেলাল। মাদক ও অপরাধপ্রবণতা কমাতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি সেবার মান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সভায় গণতন্ত্র ও সুশাসনের বিভিন্ন দিক নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। জনগণকে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলকে মাদক, সন্ত্রাস ও সহিংসতামুক্ত করে শান্তিপূর্ণ জনপদে পরিণত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি অঞ্চলের সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে সমান গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। তাঁর মতে, মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা যত বাড়বে, সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও তত কমবে। এ লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!