রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণ জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণ জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দামের পরিবর্তন, আমদানি ব্যয়, জাহাজভাড়া, খালাস ও পরিবহণসহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনায় নিয়েই দেশে সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর দাবি, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে আমদানি করা ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের যে মূল্য নির্ধারিত থাকে, তার সঙ্গে দেশের বাজারে তেল পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ব্যয় যুক্ত হয়। এসব ব্যয় হিসাব করেই শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজে পণ্য তোলার পর্যায় পর্যন্ত যে মূল্য থাকে, সেটি মূলত পণ্যের প্রাথমিক আন্তর্জাতিক মূল্য। এর পর আমদানিকারকের ওপর জাহাজভাড়া, বিমা, পণ্য খালাস, পরিশোধনাগারে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহণের মতো অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়। এ ছাড়া পরিবহণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় কিছুটা অপচয়ের বিষয়ও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়। সব মিলিয়েই দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, বুধবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশ বাণিজ্য ও শুল্ক কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রতি লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। তবে সরকার ভোক্তাদের স্বার্থ এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের ভোজ্যতেল ব্যবসা মূলত বেসরকারি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে দাম বেশি থাকা কিংবা আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা যদি ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েন, তাহলে বাজারে সরবরাহের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে পরবর্তী সময়ে ভোক্তাদের জন্য আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে একদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ভোক্তাদের স্বার্থ, অন্যদিকে আমদানিকারকদের ব্যয় ও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যসূচক অনুসরণ করলেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণের পেছনে থাকা হিসাবের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের বাজারে তেলের দামের সমন্বয়ের বিষয়টিও যাচাই করা যায়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভোজ্যতেলের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার লক্ষ্যেই এবার দাম সমন্বয়ে তুলনামূলক সংযত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতেও ভোজ্যতেলের বাজারদর পর্যালোচনা করা হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!