রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিগগিরই চালু হচ্ছে মৈত্রী এক্সপ্রেস: ভারতীয় হাইকমিশনার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

শিগগিরই চালু হচ্ছে মৈত্রী এক্সপ্রেস: ভারতীয় হাইকমিশনার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ আবারও স্বাভাবিক হওয়ার পথে। ঢাকা-কলকাতা পথে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। খুব শিগগিরই ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে।

দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার ক্ষেত্রে রেল যোগাযোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, আকাশপথে যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও সেটি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু দেশের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ সড়ক ও রেলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সীমান্তপারের যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী নিজেও রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সাধারণ যাত্রীদের জন্য রেল যোগাযোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, যাত্রীদের বড় একটি অংশ স্বল্প ব্যয়ে এবং তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের জন্য রেলপথকে বেছে নেন। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মৈত্রী এক্সপ্রেস নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা আরও কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা-কলকাতা পথে মৈত্রী এক্সপ্রেস, ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি পথে মিতালী এক্সপ্রেস এবং কলকাতা-খুলনা পথে বন্ধন এক্সপ্রেস রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব ট্রেনের যাত্রীসেবা বন্ধ থাকায় দুই দেশের নিয়মিত যাত্রী, রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতায়াতে বাড়তি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

এদিকে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠকেও আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আলোচনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে নতুন রেলপথ চালু এবং বিদ্যমান রুট আরও কার্যকর করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মানুষের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব মানুষ আকাশপথের তুলনায় কম ব্যয়ে যাতায়াত করতে চান, তাদের জন্য এই রেলসেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, রাজনৈতিক বিষয় আলাদা এবং ওই দিনের আলোচনায় তিনি রাজনৈতিক প্রসঙ্গে যেতে চান না। তাঁর বক্তব্যে মূলত দুই দেশের সাধারণ মানুষের যোগাযোগ, রেল ও সড়কব্যবস্থা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোই গুরুত্ব পেয়েছে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন যাত্রীরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!