প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার (১৮ মে) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়।
দলটির আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এবং নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার এককভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং কোনো রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে যুক্ত হবে না।
ঘোষণায় বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি চলছিল। সংগঠনটি মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা পর্যায়ে আলোচনা ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছে।
ঘোষণার সময় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব জানায়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় তারা স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। তাদের মতে, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে স্থানীয় সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখাই মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে থাকে। তাই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ঘোষণা নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঢাকার আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা এবং স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যুগুলো নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছে। নতুন করে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় নির্বাচনী পরিবেশ আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই ঘোষণা ঢাকার আসন্ন সিটি নির্বাচনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



