প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই। ঈদের দিন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছেন।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ নেতা। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নিজ এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে নিজেকে গড়ে তোলেন। পরে জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে নিজ এলাকায় শক্তিশালী নেতৃত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে অন্যতম বড় অর্জন ছিল ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে একাধিকবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া। দীর্ঘ সময় এলাকার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দবিরুল ইসলাম। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চল, আবাসন, সমাজকল্যাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত কার্যক্রমে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় নিজ জেলার রাজনৈতিক নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কিছু সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। চলতি বছরের মে মাসে আদালতের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এর পরপরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দবিরুল ইসলামের মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। অনেকেই তাকে অভিজ্ঞ, ধৈর্যশীল ও জনমুখী নেতা হিসেবে স্মরণ করছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধের অবদান এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আলোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



