প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী সামনে রেখে আট দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এ উপলক্ষে দলীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
শুক্রবার রাজধানীর নয়া পল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত বা সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ হলেও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড কাম্য নয়। তার মতে, চক্রান্ত ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রিজভী বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না; বরং এর পেছনে দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল বলে দলীয়ভাবে ধারণা করা হয়। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা সবসময় রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজভী বলেন, কোনো রাষ্ট্রেই অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তবে সরকারের দায়িত্ব হলো দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দাবি করেন, সরকার কিছু ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনগণ তা পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ভোরে দলীয় কার্যালয় ও সারা দেশে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকালবেলায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরা আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে।
ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কর্মসূচি একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।



