প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৪ জনের মধ্যে ১০ জনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, গুম ও হত্যার শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মোট ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।
এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি হারানো আহত যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলম রয়েছেন।
নিয়োগপত্র গ্রহণের পর কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে চাকরির সুযোগ তাঁদের পরিবারে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে গুম ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা।
নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন।
গুম, হত্যাকাণ্ড ও জুলাই অভ্যুত্থানে পরিবারের সদস্য হারানো মানুষের জীবনে আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়াকে পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিয়োগপত্র পাওয়া পরিবারের সদস্যরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাঁদের স্বজনদের নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যও রয়েছে এই উদ্যোগের পেছনে।



