রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গুম প্রতিরোধে সংসদ অভিমুখে ১১ দলের পদযাত্রা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

গুম প্রতিরোধে সংসদ  অভিমুখে ১১ দলের পদযাত্রা

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার, ভুক্তভোগীদের স্বীকৃতি এবং গুম প্রতিরোধে গঠিত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেছে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। ‘বাংলাদেশ গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পদযাত্রাটি সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচি শেষে সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকেরা। স্মারকলিপিতে গুম প্রতিরোধে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনে থাকা সুপারিশগুলো কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই আইনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হবে।

পদযাত্রায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পদযাত্রার আগে বিকেল ৩টার দিকে বাংলামোটরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের সামনে আয়োজিত ওই সমাবেশে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের শিকার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। বক্তব্যে তিনি গুমের অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গুমের মতো গুরুতর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শুধু তদন্ত বা অভিযোগ গ্রহণ যথেষ্ট নয়; দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। তারা গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পদযাত্রাটি সংসদের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এরপর একটি প্রতিনিধিদল সংসদে প্রবেশ করে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্মারকলিপিতে গুম প্রতিরোধ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তুলে ধরা হবে।

নেতারা মনে করেন, গুমের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হবে না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে শক্তিশালী আইন ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ দলীয় জোট তাদের দাবিগুলো সরাসরি সংসদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। পদযাত্রা ও স্মারকলিপির মাধ্যমে গুম প্রতিরোধে বিদ্যমান সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!