প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটির জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে ঘিরে হামলা ও নিরাপত্তা শঙ্কার অভিযোগ সামনে এসেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভেতরে তাকে মারধরের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দৃশ্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যে মাহাদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে মাহাদী হাসান দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছেন এবং হামলার আশঙ্কায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দৃশ্যে তাকে আতঙ্কিত অবস্থায় দ্রুত রিকশাযোগে হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে যেতে দেখা যায়। পরে থানায় গিয়ে তিনি পুলিশের কাছে সহায়তা চান।
মাহাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে কিছু লোক তার পিছু নেয়। তিনি আগেই সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। তার অভিযোগ, আশ্বস্ত করা হলেও ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং তিনি হুমকির মুখে পড়েন।
তবে পুরো ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মাহাদীর সঙ্গে একটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যে অভিযোগে অভিযুক্তদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি। হামলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিতও করা সম্ভব হয়নি। তবে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চলছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মাহাদী হাসান এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে একটি ঘটনায় থানায় গিয়ে দেওয়া তার কিছু বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেও যেতে হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা ও হামলার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আবারও জনমনে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য সামনে আসায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত না করে, সে দিকেও নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



