প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এই বাজেট বাস্তব সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না। সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ বলে অভিহিত করেন এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আমির হামজা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ একটি বাস্তবমুখী ও কল্যাণভিত্তিক বাজেট প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু উপস্থাপিত বাজেটে সেই প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য বলেন, বাজেট ঘোষণার পর সরকারের পক্ষ থেকে নানা ইতিবাচক বক্তব্য দেওয়া হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে। তার মতে, বাজেটের সাফল্য কাগজে-কলমে নয়, বরং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।
অর্থপাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। তাই এবারও বাজেটের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হবে কি না, সে বিষয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা এবং কার্যকর নজরদারির দাবি জানান, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় বা অনিয়মের শিকার না হয়।
শিক্ষা খাতের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমির হামজা বলেন, দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব থেকে বঞ্চিত। তিনি ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি ফাজিল ও একটি কামিল মাদ্রাসাকে জাতীয়করণের দাবি জানান। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
কৃষি খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দেওয়ারও আহ্বান জানান। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আর্থিক চাপ কমবে বলে তিনি মনে করেন।
কুষ্টিয়া অঞ্চলের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেলপথ চালুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান। এছাড়া ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব মোকাবিলায় শিল্পায়নের গতি বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে আমির হামজা বলেন, জনগণের ওপর নতুন করের চাপ সৃষ্টি না করে কর ফাঁকি প্রতিরোধে আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তিনি এমন একটি বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান, যা প্রকৃত অর্থে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।



