প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে যুবসমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। সেই বাস্তবতায় তরুণদের সচেতন ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া গণরায় ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণ একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশার অনেক কিছুই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো সংসদে সমাধান না হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। জনগণের কাছে সংস্কার ও গণরায়ের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে জনগণের সঙ্গে করা বিভিন্ন অঙ্গীকার পূরণ করা হয়নি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছ প্রশাসন চায়।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া সংস্কারমুখী রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ডা. অলি আহমদ, মাওলানা মামুনুল হক, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বক্তারা দুর্নীতি, বৈষম্য, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, জনদুর্ভোগ নিরসন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



